মেজর ডালিমের স্ত্রীকে শেখ কামাল তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রপাগাণ্ডা এবং বাস্তবতা সত্যটা জানতে পড়তে পারেন!!!
অভিযোগ করা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল মেজর ডালিমের স্ত্রীকে হাইজ্যাক/কিডন্যাপ কিংবা উঠিয়ে নিয়েছিলেন। প্রশ্ন এসেই যায়, এই অভিযোগ কি সত্য?
এক কথায় উত্তর হচ্ছে, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যে একটি কথা এবং এই প্রোপাগান্ডাটুকু-ও ৭৫-এর পনেরো অগাস্টের পরবর্তী সময়গুলোতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে নৃশংস হত্যাকান্ডকে হালাল করবার জন্য এক ধরনের গোয়েবলসীয় মিথ্যাচার।
“Big Lie” হচ্ছে এই জোসেফ গোয়েবলস এর একটা টেকনিক বা থিয়োরী। একই মিথ্যে একটি সুনির্দিষ্ট সময় বা প্রেক্ষাপটে আপনি বার বার বলতে থাকবেন, দেখবেন এতে করে কেউ বিশ্বাস করবে আবার যারা বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কিছুই করতে পারছে না তারা এক ধরনের কনফিউশনে চলে যাবে যাদের এই দ্বিধা অনেকটা বিশ্বাস করবার দিকে অল্প হলেও বেশী ঝুঁকে থাকবে।
শেখ কামালের ব্যাংক লুটের কথা যেভাবে বানানো হয়েছিলো ঠিক শেখ কামালের চরিত্রের উপর এক ধরনের কালিমা মাখাবার জন্য-ই এই ডালিমের স্ত্রী নিম্মিকে উঠিয়ে নিয়ে যাবার একটা গল্প আমাদের এই দেশেই বানানো হয় ১৫-ই অগাস্ট পরবর্তী সময়ে।
বঙ্গবন্ধুর খুনী, পুনর্বাসিত রাজাকার, তৎকালীন জাতীয়তাবাদী জ্ঞানপাপীরা নানা কায়দায় শেখ কামাল সম্পর্কিত একটা মিথ্যাচার জারী রাখে।
আমাদের দেশের আম জনতা যেহেতু এই ধরনের গুজব অসম্ভব আরাম করে খায় কিংবা পান করে ফলে ধূর্ত নেতাদের এই বিভ্রান্ত জনতাকে অখাদ্য গেলাতে খুব বেশী কষ্ট করতে হয়নি। দশকের পর দশক এই মিথ্যে শারবান তহুরা পান করিয়ে গেছে মিথ্যুক জেনারেল, দূর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদেরা কিংবা খুনীর দলেরা।
মেজর ডালিমের স্ত্রী নিম্মিকে শেখ কামাল তুলে নিয়ে গেছেন কিনা সেটা নিয়ে অনলাইন বলেন কিংবা অফ লাইন বলেন প্রচুর লেখালেখি রয়েছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে এমন একটা যায়গা থেকে আমাদের রেফারেন্স নেয়া উচিৎ যেই রেফারেন্সটা নিলে সাধারণ মানুষের বুঝতে অনেকটা সহজ হবে।
এই ব্যাপারটি মাথায় রেখেই আমি আমার লেখার মূল রেফারেন্স হিসেবে ডালিমের একটা বই বেছে নিয়েছি যদিও এই বই-এর পরতে পরতে মিথ্যাচার আর বঙ্গবন্ধুকে কিংবা তাঁর পরিবারকে যতটা সম্ভব নীচু করে দেখানো যায় এটা তারই প্রকাশ।
কিন্তু এরপরেও এই বইটার রেফারেন্স আমি কেন বেছে নিয়েছি, সেটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকে এত ঘৃনা করবার পরেও এই নিম্মি ঘটিত ব্যাপারে কিন্তু ডালিম কখনোই শেখ কামালের কথা লেখেনি কিংবা আনেনওনি।
ফলে যার স্ত্রীকে নিয়ে ঘটনা সেই ব্যক্তির বই থেকেই যখন জানতে পারা যায় যে আলোচ্য ঘটনায় শেখ কামাল জড়িত নেই কিংবা নাম গন্ধ পর্যন্ত নেই, সেখানে আসলে আর কিছু বলবার থাকে না।
যাই হোক আমরা প্রসঙ্গে ফিরে আসি। বঙ্গবন্ধুর খুনী মেজর ডালিম ২০০১ সালে নবজাগরন প্রকাশনী থেকে একটি বই প্রকাশ করে যেটির নাম “যা দেখেছি-যা বুঝেছি-যা করেছি”
সেই বইটির ৪২৭ নাম্বার পৃষ্ঠা থেকে যে কাহিনী লিখিত হয়েছে সেখানেই আমরা জানতে পারি তার স্ত্রী নিম্মি কাহিনী, খালাতো বোন তাহমিনা কাহিনী কিংবা শ্যলক বাপ্পি আর গাজী গোলাম মোস্তফা কাহিনী।
ঘটনার সার-সংক্ষেপ হচ্ছে ডালিমের খালাতো বোন তাহমিনার বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছিলো ঢাকা লেডিস ক্লাবে। বর কর্ণেল রেজা।
এই অনুষ্ঠানে অনেকের সাথে গাজী গোলাম মোস্তফাও আমন্ত্রিত ছিলো। সে সময় গাজী গোলাম মোস্তফা ছিলো বাংলাদেশের রেড ক্রসের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামীলীগ নেতা।
বিয়ে বাড়িতে ছেলেরা যেখানে বসে বা যেখানে ছেলেদের বসার ব্যবস্থা হয়েছিলো সেখানে ডালিমের শ্যালক বাপ্পিও বসে ছিলেন। বাপ্পি মূলত থাকতেন কানাডায়।
ডালিমের ভাষ্যমতে, বাপ্পির পেছনের সারিতে বসে থাকা গাজী গোলাম মোস্তফার ছেলেরা কৌতুকচ্ছলে কিছুক্ষণ পর পর বাপ্পির চুল ধরে টানছিলো। বাপ্পি পেছনে তাকাতেই ছেলেগুলো নির্বাক হয়ে বসে থাকে। এইভাবে ২থেকে ৩ বার পর বাপ্পি প্রচন্ড রেগে যায় এবং জিজ্ঞেস করে করে,
– চুল টানছে কে
ছেলেদের ভেতর থেকে একজন উত্তর দেয়-
-আমরা পরখ করে দেখছিলাম আপনার চুল আসল না পরচুলা।
এসব রসিকতায় বাপ্পি ভীষণ ক্ষেপে যায়; কিন্তু কিছুই বলে না। মাথা ঘুরিয়ে নিতেই আবার চুলে টান পরে। এবার বাপ্পি যে ছেলেটি চুলে টান দিয়েছিল তাকে ধরে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বলে,
-বেয়াদপ ছেলে মশকারী করার জায়গা পাওনি? খবরদার তুমি আর ঐ জায়গায় বসতে পারবে না। এ কথার পর বাপ্পি আবার তার জায়গায় ফিরে আসে
এই ঘটনার রেশ ধরে যখন বিয়ে বাড়ীর আয়োজন যখন প্রায় শেষ তখন গাজী গোলাম মোস্তফা এবং তার দলবল বিয়ে বাড়িতে এসে হানা দেয়।
উল্লেখ্য যে আগেই বলেছি গোলাম মোস্তফা নিজেই আমন্ত্রিত ছিলো। ডালিমের বই থেকে যতদূর বুঝতে পারা যায় যে ছেলেরা বাপ্পির এই বের করে দেয়ার ঘটনা গাজী গোলাম মোস্তফাকে গিয়ে বলে এবং গোলাম মোস্তফা এই বিয়ে বাড়ীতে তার স্ত্রী সন্তানদের রেখে ঐ ছেলেগুলোর সাথে বের হয়ে গিয়ে একটা বড় দলবল নিয়ে আবার বিয়ে বাড়ীতে ফেরত আসে।
বিয়ে বাড়ীতে ফেরত এসেই গাজী ডালিমের বাড় বেশী বেড়েছে এই বলে ডালিমকে ধরে নিয়ে যাবে বলে ধমকাতে থাকে। একটা পর্যায়ে ডালিমের স্ত্রী নিম্মি, ডালিমের খালা এসে জানতে চান কি হয়েছে।
ডালিম আবার তার বর্ণনায় বলছে, এরই মধ্যে গাজীর ছেলেরা মুক্তিযোদ্ধা আলম আর চুল্লুকে গাজীর নিয়ে আসা মাইক্রোবাসে উঠায়।
ডালিমের ভাষ্যমতে গাজীর ছেলেরা টেনে-হিঁচড়ে ডালিমকে গাড়িতে উঠায় এবং এই দেখে ডালিমের স্ত্রী নিম্মি ও খালা-ও বলে, ডালিমকে এইভাবে নিলে আমরাও যাব গাড়ীতে। এর ফলে ওই গাড়িতে ডালিমের স্ত্রী ও খালা দুইজনই ওঠে।
ডালিমের ভাষ্যমতে গাজীর ছেলেরা ডালিমদের অন্য কোনো যায়গায় নেবার প্ল্যান করেছিলো কিন্তু ডালিম যখন গাজীকে সতর্ক করে দিলো যে আপনি এইভাবে প্রকাশ্যে আমাদের নিয়ে যাচ্ছেন এটা একটু পরেই সেনাবাহিনীতে জানাজানি হবে যেটার ফল ভালো হবে না।
ডালিমের ভাষ্যমতে এই কথা শুনে গাজী ভয় পায় এবং ডালিমদের নিয়ে যায় বঙ্গবন্ধুর বাসায় কিন্তু মাইক্রোবাসটিকে ৩২ নাম্বারের একটা গাছের ছায়াতে পার্ক করে।
গাজী একাই ৩২ নাম্বারে ঢোকে এবং ডালিম দেখতে পায় যে আরেকটা গাড়ীতে করে সেখানে মাত্র এসে পৌঁছেছে ডালিমের ছোট বোন মহুয়ার স্বামী আবুল খায়ের লিটু (বেঙ্গলের কর্ণধার) এবং এস পি মাহবুব।
পরবর্তীতে ডালিম, নিম্মি, ডালিমের খালা, গোলাম মোস্তফা সবাই বঙ্গবন্ধুর বাসাতে যায় এবং বঙ্গবন্ধু গাজী গোলাম মোস্তফার উপর প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হন এবং সকলের কাছে মাফ চাইতে বলে।
উল্লেখ্য যে বঙ্গবন্ধু তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান শফিউল্লাহকে ফোন করে তাঁর বাসায় আসতে বলেন ও শফিউল্লাহও একটু পর চলে আসে।
ডালিমের ভাষ্যমতে শেখ কামালের সম্পর্কে এই ঘটনায় আমরা শেখ কামালকে শুধু মাত্র দেখতে পাই একমাত্র তখন, যখন ডালিম, নিম্মি, তার খালা সহ বঙ্গবন্ধুর বাসায় ঢোকে তখন শেখ হাসিনা, শেখ রেহানার সাথে শেখ কামালও নীচে নেমে আসেন এবং তখনই তারা ঘটনা জানতে পারেন।
এই হচ্ছে পুরো ঘটনা এবং এই ঘটনা সেদিনই মিটমাট হয়ে যে যার ঘরে ফিরে যায়। এই ঘটনাকে অনেকেই অনেক ভাবে দেখেন, বর্ণনা করেন কিংবা বলেন কিংবা হয়ত সম্পূরক প্রশ্নও অনেকের আসবে।
কিন্তু এই ঘটনা থেকে একটা ঘটনা স্পস্ট বের হয়ে আসে যে, শেখ কামাল কোনোভাবেই ডালিমের স্ত্রীকে অপহরণ করেনি।
আমি এই ঘটনার সাথে আরো কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করছি পাঠকদের বুঝবার জন্য। ডালিমের সাথে গাজীর এই ঘটনার জাস্ট কিছুদিন আগেই কুমিল্লাতে একটা রাজনৈতিক কাজে গিয়ে শেখ কামাল, শাহান চৌধুরী এবং আনোয়ারুল হক তারেক ডালিমের বাসায় রাত্রি যাপন করে, খাওয়া দাওয়া করেন। ডালিমকে যথেষ্ঠ শ্রদ্ধা করতেন শেখ কামাল।
ডালিমের বই পড়েই আমরা জানতে পারি ডালিম বঙ্গবন্ধুকে ডাকতো চাচা এবং ডালিমের প্রতি বঙ্গবন্ধুর অন্য রকমের একটা স্নেহ ছিলো যেটা ডালিমের লেখাতেই স্পস্ট ভাবে ফুটে উঠে। বঙ্গবন্ধুর কিছু পছন্দ না হলে ডালিম সেগুলো বলতে পারতো এবং এতটাই এক্সেস ছিলো তার বঙ্গবন্ধুর কাছে।
মুক্তিযোদ্ধা রুহেল আহমেদ বাবুর বক্তব্যের সূত্র ধরে আমরা জানতে পারি ডালিমের শাশুড়ী সপ্তাহের একটা বড় অংশ কাটাতেন বঙ্গবন্ধুর বাসায় এবং সাথে নিম্মিও আসতো। বেগম মুজিবের সাথে রান্না বাড়া করতেন, মাছ কাটতেন গল্প করতেন ডালিমের শাশুড়ী। এই তথ্যও আমরা পাই শাহান চৌধুরীর কাছ থেকে। নিম্মি ছিলো শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার খুবই নিকটের একজন এবং বেগম মুজিব অসম্ভব রকমের আদর করতেন নিম্মিকে।
বি এন পি নেতা শমসের মবিন চৌধুরীর ছোট ভাই, শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহান চৌধুরীর বরাতে আমরা এও জানতে পারি যে, বঙ্গবন্ধুর রান্না ঘরে ডাইরেক্ট ঢুকে যেতো মেজর ডালিম এবং চুলা থেকে উঠিয়ে খাবার খেতো ডালিম। এতটাই ক্লোজ ছিলো ডালিম বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে। বেগম মুজিব স্নেহ মাখা কন্ঠে মাঝে মধ্যে বকা দিতেন ডালিমকে।
কে জানতো বঙ্গবন্ধুকে চাচা চাচা করে মুখে ফেনা তুলে ফেলা আর বেগম মুজিবকে চাচী চাচী করে মুখে ফেনা তুলে ফেলা এই বেঈমান বঙ্গবন্ধুর বুকেই একদিন ঢুকিয়ে দেবে বুলেট। খুন করবে শিশু রাসেল সহ সবাইকে?
শেখ কামালের নারী বিষয়ক আলোচনা করতে গিয়ে শাহান চৌধুরী বা রুহেল আহমেদ বাবু (জাসদের লীডার) সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে সুলতানা কামাল খুকীর প্রতি শেখ কামালের প্রেম আর ভালোবাসা ছিলো অবসেশন পর্যায়ের। সুলতানা কামাল ছাড়া আর কিছুই বুঝতেন না কামাল।
মিউনিখে একবার রুহেল আহমেদ বাবু শেখ কামালকে রাতে নাইট ডিস্কো তে নিয়ে যেতে চাইলে শেখ কামাল বাবুকে বলেন, “তুই জানোস না আমি সুলতানা ছাড়া আর অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকাতে পারিনা?”
আর এই কামালের ব্যাপারে এসব রাস্তার আবর্জনা, দালাল,খুনী,চাটুকাররা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে কামাল খুনী ডালিমের স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে এসেছিলো।
মিথ্যাচার আর নোংরামোর একটা লিমিট থাকে। একটা সীমা থাকে। কিন্তু ৭৫ পরবর্তী সময়ে খুনীরা যেভাবে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের রক্তে হাত রঞ্জিত করেছে, ঠিক একইভাবে তাদের গায়ে কালিমা লেপন করবার জন্য সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিলো।
আজ স্বাধীনতার এত বছর পরে এই প্রজন্মের জন্য আমাদের লিখতে হছে সত্য ইতিহাস। বই ঘাটতে হচ্ছে সত্য জানাবার জন্য। আসলেই কি এমন কথা ছিলো? আসলেই কি এমন হবার ছিলো? এই সময়ে তো লিখতে পারতাম অন্য কণো জনহতকর কিছু। কিন্তু দশকের পর দশক এইসব মিথ্যাচার এতটাই নোংরামো ছড়িয়েছে যে আজকের এই সময়ের তরুন দেখতে পাই এইসব মিথ্যাচার নিয়ে বসে রয়েছে আর বিশ্বাস করে বসে রয়েছে।
ফলে এসব মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে ধরতে হয় কিবোর্ড। উপায় থাকেনা আর।
কিন্তু যে কথাগুলো বলার কথা ছিলো আমাদের মুরুব্বীদের। আমাদের বাপ-চাচাদের, তারা কেন এসব লিখে যান নি কিংবা লেখেন নি? এর সঠিক উত্তর আমরা পাইনা।
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেক সময় বিষাদ এতটাই ভ’র করে যে এসবের সদুত্তোর আর খুঁজে পাইনা।
@ ব্যরিষ্টার Nijhoom Majumder-নিঝুম মজুমদার !!
See les




এই ব্লগে প্রকাশিত লেখাটি আমাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার ফলাফল যা যথাযথ নথিপত্র ও রেফারেন্স দ্বারা সমৃদ্ধ ও সমর্থিত। লেখাটি আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, পছন্দ না-ও হতে পারে। আমাদের সাথে হয়ত আপনি একমত হবেন না কিন্তু আমরা ধন্যবাদ জানাই আপনি এই সাইটে এসেছেন, আমাদের লেখাটি কষ্ট করে পড়েছেন আপনার সময় ব্যয় করে, এটিও পরম পাওয়া। সবার মতামত এক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দ্বিমত থাকবে, তৃতীয় মত থাকবে কিংবা তারও বেশী মতামত থাকবে আবার সেটির পাল্টা মতামত থাকবে আর এইভাবেই মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের চিন্তাকে খুঁজে ফেরে নিরন্তর। আর লেখাটি ভালো লাগলে কিংবা আপনার মতের সাথে দ্বন্দ্বের তৈরী না করলে সেটি আমাদের জন্য বড় সৌভাগ্য। আমরা সেটির জন্য আনন্দিত। গুজবের জবাবে সত্য পাঠ শুভ হোক, আনন্দের হোক, এই চাওয়া। আপনার এবং আপনাদের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি সব সময়।