শেখ কামালকে নিয়ে যেভাবে গুজব বানানো হতো
‘১৯৭৩ সালের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করছি। তখন এলিফ্যান্ট রােডে ছিল আমার বাসা। সন্ধ্যার কিছু আগে রিকশায় করে বাসায় ফিরছিলাম।হঠাৎ দেখতে পেলাম, শেখ কামাল তাঁর লাল টয়ােটা গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে।
ও আমাকে দেখতে পেয়ে গাড়ি থামিয়ে নামলাে। বাসার খুব কাছে বলে আমিও রিকশা ছেড়ে দিলাম।
রাস্তার পাশেই কাঁচ ও ফটো বাঁধানাের একটা দােকান ছিল, এখনাে আছে। দোকানের মালিক আমার বেশ পরিচিত। ওখানে আমার একটু কাজও ছিল। কথা বলতে বলতে কামাল আর আমি ঐ দোকানে ঢুকলাম।দোকানদার ভদ্রলােক আমাদের কোমল পানীয় দিয়ে আপ্যায়ন করলেন।
আমরা দু’জন কোমল পানীয় পান করছিলাম, তখন ইউনির্ভাসিটি এলাকায় গোলাগুলি শুরু হওয়ার শব্দ শুনতে পেলাম। ব্যাপারটা লক্ষ্য করে কামাল একটা গালি দিয়ে বললাে, ওরা আবার মারামারি শুরু করেছে। দশ-পনেরাে মিনিট পর গােলাগুলির শব্দ থেমে গেল।
আমার বাসা একেবারে কাছে বলে কামালকে বললাম, চলাে, বাসায় যাই।সে বললাে, না আর একদিন আসবাে, এখন যাচ্ছি।
বাসায় ঢােকার দু-চার মিনিট পর সম্পর্কে আমার এক ভাই এসে উপস্থিত হলাে। সে বেশ হাঁপাচ্ছিল।
বললাে, ইউনিভার্সিটি এলাকা দিয়ে রিকশায় আসার সময় সে দেখেছে, দুদল ছেলে গােলাগুলি করছে। শেখ কামাল এক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
আমার এই ভাইটি আমার চেয়ে পাঁচ-সাত বছরের ছোট এবং বেশ লেখাপড়া জানা ছেলে।
আমি তাকে বললাম, এতাে বড়াে একটা মিথ্যে কথা তুমি না বললেও পারতে। গােলাগুলি ঠিকই হয়েছে। কিন্তু শেখ কামালকে তুমি কোনাে দলের নেতৃত্ব দিতে দেখনি। সামনের রাস্তার ওপর ফটো বাঁধানাের দোকানে বসে গোলাগুলির সেই শব্দ আমিও শুনেছি এবং যতক্ষণ সেটা চলেছে, কামাল ও আমি ততক্ষণ ওখানে বসে গল্প করেছি এবং কোকাকোলা পান করেছি। তারপর কামাল নিজের বাসায় চলে গিয়েছে।
আমার স্ত্রী তাহমিনা এবার আমার সে ভাইকে লক্ষ্য করে বললো, তুমি যদি বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের লােকজনকে মিথ্যে অপবাদ দেয়ার অভ্যাস ছাড়তে না পারাে, তবে আর আমাদের বাসায় এসাে না।’
**গ্রন্থ সূত্র-‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং আমার জীবন’, লেখক-আলমগীর সাত্তার,সাহিত্য প্রকাশ, প্রথম প্রকাশ-ফেব্রুয়ারী-২০১৮
বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবার নিয়ে ঠিক কিভাবে অপঃপ্রচার ছড়িয়েছিলো সে সময়, এই ছোট্ট ঘটনা লাইনে লাইনে বলে দিয়ে গিয়েছে।