ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশ করবার বিষয়টি ঠিক কার মাথা থেকে বের হয়েছিলো?
খন্দকার মোশতাকের বুদ্ধি ছিলো ক্ষুরধার। যদিও তার এই বুদ্ধি তিনি বাংলাদেশের মৌলিক কাঠামো পালটে সেটিকে এক অন্ধকার প্রতিক্রিয়াশীল যাত্রার দিকে নেবার স্বার্থে পুরোটা জীবন ব্যয় করে গেছে। মোশতাকের এই কূটবুদ্দির কূটচাল বুঝতে হলে বঙ্গবন্ধু হতার পর ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’-এর এই কূট আইনের অবতারনা হলো সেটির পুরো ইতিহাস জানাও প্রাসঙ্গিক। এখানে মোশতাকের মানসিক গড়নের একটা পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যাবে।
এই অধ্যাদেশ ২৬ শে সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ ইং তারিখে মোশতাক আহমেদের পক্ষে তৎকালীন আইন ও সংসদ বিষয়ক সচিব এম এইচ রহমান সাক্ষর করে জারি করেছিলেন কিন্তু এই জারি করবার আগের হোমওয়ার্কের বিস্তারিত, পরিকল্পনা সম্পর্কে বলা চলে তেমন কিছুই জানা যায়না। ব্যাক্তিগত স্মৃতিচারনেও গুরুত্বপূর্ণ এইসব বিষয় চাক্ষুস দেখেছেন তাঁরাও কিছু বলে গেছেন এমনটা কখনো চোখে পড়েনি।
স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন এই ক্ষেত্রে এসেই যায় যে খন্দকার মুশতাক এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করলেও কারা কারা এই অধ্যাদেশের পেছনে সহায়ক বুদ্ধিদাতা কিংবা পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন? এই অধ্যাদেশে যেসব পরিচ্ছদ অন্তর্ভূক্ত হয়েছে এমন বিষয়গুলো কি মোশতাকের একেবারেই নিজের মস্তিষ্ক থেকে উৎসারিত বুদ্ধিতে জারি করা একটি অধ্যাদেশ নাকি সংঘবদ্ধ হয়ে কেউ এই পুরো অধ্যাদেশের পরিকল্পনা করেছিলেন? কিংবা কার মাথায় প্রথম এই বুদ্ধিটি আসে যে ভবিষ্যতের জন্য এমন ব্যবস্থা করে রাখতে হবে যেখানে এই অধ্যাদেশটি নিয়ে খোদ আদালতে যাওয়া দূরের কথা বরং প্রশ্ন তোলাই নিষিদ্ধ করা হবে।
এই বিষয়ে আমি কিছুটা সৌভাগ্যবান বলবো নিজেকে যে সুনির্দিষ্টভাবে আমি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের এই বিষয়গুলো নিয়ে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকারের সচিব, পরবর্তীকালে বঙ্গভননে কর্মরত (যদিও তাঁকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের কিছুদিন পর ও এস ডি করে দেয়া হয়) জনাব মাহবুব তালুকদারের সাথে একটা দীর্ঘ সাক্ষাৎকার (ব্যাক্তিগত আলাপনও বলা যেতে পারে) নিতে পেরেছিলাম নিজের কৌতূহল নিবারণের জন্য। একই সাথে লন্ডনে এই বিষয়ে একাধিকবার আমার কথা হয়েছিলো প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরীর সাথে এবং একসময়ের বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রেস সচিব আমিনুল হক বাদশা’র সাথে।
আমিনুল হক বাদশার সাথে আমার পরিচয় হয় ২০১৩ সালের দিকে যখন একাত্তরের ঘাতকদের যখন বিচার চলছিলো এবং দেশে শাহবাগে গণ জোয়ার চলছে সে সময়। তিনি সে সময় আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর হয়ে আইনী লড়াই যিনি করেছিলেন সেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর ব্রিটিশ আইনজীবি স্যার টমাস উইলিয়াম এবং অংশগ্রহণকারী সাবেক আইরিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী শন ম্যাকব্রাইট পরিবারের কাউকে আমি খুঁজে বের করতে পারবো কিনা। এই দুইজইন ব্যাক্তিই বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের লন্ডন তদন্তে মূল ভূমিকা রাখেন।[1] সেই সময় বাংলাদেশ সরকার একাত্তরের বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা জানাচ্ছিলেন বাংলাদেশে। সেই কাজের সূত্র ধরে বাদশা ভাইয়ের সাথে আমার নিয়মিত কথা হতো। একই সাথে একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে কিভাবে পুরো বিষয়টা আরো বিভিন্ন দেশে জানানো এবং তাদের সমর্থন পাওয়া যায় এটি নিয়েও আমরা জোরালোভাবে কাজ করছিলাম। আমার মনে আছে এই বিষয়ে লন্ডনের ‘ক্যানারি ওয়ার্ফ’ নামে একটি এলাকায় বেশ প্রখ্যাত রেস্তোরা ‘মেমসাহেব’-এ আমরা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি সংস্থার দু’জন কর্মকর্তার সাথে বিশদ আলাপও করেছিলাম।
নানা আলাপের ফাঁকে আমি বাদশা ভাইকে ইনডেমনিটি আইনের বিষয় এবং এটা আসলে কার বুদ্ধিতে হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই তিনি আমাকে তৎকালীন মোশতাক সরকারের সময় বঙ্গভবনে ও সচিবালয়ে কর্মরত সরকারী দুইজন কর্মকর্তা, জনৈক কেরামত আলী এবং শফিউল আজমের সাথে তাঁর আলাপের স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁদের সাথে বাদশা ভাইয়ের ব্যক্তিগত কিছু কথোপকথনের স্মৃতি আমার কাছে উল্লেখ করেন। জনাব কেরামত আলী মোশতাকের সময় কিছুদিনের জন্য বঙ্গভবনে ছিলেন বলেও বাদশা ভাই আমাকে জানান। এই অধ্যাদেশ জারি করবার পেছনের একটা বড় কারন হিসেবে কেরামত সাহেব আমিনুল হক বাদশাকে বলেন ১৫-ই অগাস্টে যেদিন মোশতাক শপথ নেবেন সেদিন আওয়ামীলীগের সকল সাংসদ ঢাকাতেই ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। চারিদিকে ছিলো সাজ সাজ রব।
মোশতাকের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগেই তিনি টের পান সাংসদ সিরাজুল হকের নেতৃত্বে বেশ কিছু সাংসদ মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের চেষ্টা করবে। ১৫-ই অগাস্টের নির্মম ঘটনাগুলোর বিচার চান তারা। এই ঘটনার আগে-পিছনে যারাই জড়িত তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেবার জন্য কিছু সাংসদরা সিরাজুল হকের নেতৃত্বে নিজেদের ভেতর আলাপ করা শুরু করেন।
মোশতাক মূলত সে সময় অনুধাবন করেন যে এই পুরো ঘটনাকে আইনীভাবে মোকাবেলা করতে হবে। এদিকে তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী হবার প্রস্তাব দেয়া হলে তিনি খুবই বুদ্ধিমত্তার সাথে বললেন যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার হতে হবে প্রথমে, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতাকে করতে হবে তারপর তিনি ভেবে দেখবেন। তাজউদ্দিন যে কারনে এসব বললেন, তার কারন হচ্ছে সরাসরি না বলে মোশতাককে একটা ফাঁদে ফেলবার চেষ্টা করলেন।
মোশতাক মূলত ভয়টা পান তখনই। ফলশ্রুতিতে মোশতাক তাজ উদ্দিন আহমদ সহ প্রায় ২৬ জনকে ২৩-শে অগাস্ট ১৯৭৫ ইং তারিখে দূর্নীতি, স্বজন প্রীতি ইত্যাদি বায়বীয় অভিযোগে গ্রেফতার করেন। যদিও অধ্যাপক সায়ীদের গ্রন্থের উদ্ব্বরিতি দিয়ে ‘Sunday Express’ নামক এক সাপ্তাহিকে বলা হয়, মূলত ১৯ শে অগাস্ট ১৯৭৫ ইং তারিখে শফিউল্লাহ সমস্ত ফরমেশন কমান্ডারদের একটা মিটিং আহবান করেন। এই সভাতেই ঘাতক চক্রের বিরুদ্ধে কর্ণেল শাফায়াত জামিল বলে উঠেন যে যারা ১৫-ই অগাস্টের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তাদের প্রত্যেককে কোর্ট মার্শালে যেতে হবে। এই সময় ফারুক-রশীদের মুখ বিবর্ণ হয়ে যায় এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘাতকচক্র ভবিষ্যতে আইনী যে কোন ধরনের ব্যবস্থা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে উদ্যোগী হয়।[2]
বাদশা ভাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশ জারির প্রস্তাবটা ১৯৭৫ এর অগাস্টের শেষ সপ্তাহে মূলত আসে মোশতাকের কাছ থেকেই এবং ভবিষ্যতে মোশতাককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে এমন একটা ভয় থেকেই এই বিষয়ে সে তাহের উদ্দিন ঠাকুরের সাথে বিষয়টা তোলে। এই প্রস্তাব তোলার পর কিভাবে আইন করা যায় এবং এবং এতে করে প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে সেসব নিয়ে আলাপও হয়। এই আলাপে তৎকালীন আইন সচিব (পরবর্তীতে বিচারপতি) আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী[3] ক্রমাগত বুদ্ধি যোগাতে থাকেন এবং তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মন্ত্রী মনোরঞ্জন ধরকেও এই ব্যাপারে সাহায্যের জন্য চাপ দিতে থাকেন। এই আলোচনায় তাকেই বেশী উৎসাহিত মনে হতে থাকে বলে জানা যায়। পরবর্তীতে বিষয়টা শাহ মোয়াজ্জেম ও মাহবুবুল আলম চাষীকেও জানানো হয়।
মোশতাক প্রথমে এই বিষয়টা নিয়ে মোশতাকের আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধরের সাথে কথা বললে জনাব ধর বিষয়টা নিয়ে ভেবে জানাবেন বলেন। মোশতাক জনাব ধরকে যে খুব বিশ্বাস করতেন তাও নয়। কেরামত সাহেবের মতে, মনোরঞ্জন ধরের প্রতি অবিশ্বাস থেকেই এক সময় মোশতাক নিজে শাহ আজিজুর রহমান (জিয়া সরকারের প্রধান মন্ত্রী এবং আইনজীবি) সাথে সরাসরি কথাও বলেন।
আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়া হয় শাহ আজিজের কাছ থেকে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় বুদ্ধি ও পরামর্শ নেবার জন্য। পুরো বিষয়টার তদারকি করতে থাকে মোশতাক। এই সময়ে মোশতাকের কার্যক্রম কেরামত সাহেব খুবই কাছ থেকে দেখেছেন। বাদশা ভাই অনেক দিন আগের কথা হিসেবে আমাকে খুব ভেবে চি্নতে বলছিলেন। মনে হচ্ছিলো উনি স্মৃতির মধ্যে বারবার হারিয়ে যাচ্ছিলেন তারপর অনেকটা ভাঙ্গা টুকরো হিসেবে আমাকে তথ্য দিচ্ছিলেন। কেরামত আলীর বক্তব্য অনুযায়ী এই অধ্যাদেশের শাব্দিক ও বাক্য গঠনের একটা ধারনা মোশতাক আহমেদ একদিন নিজেই কিছুটা খসড়া করে তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে দেখান এবং মূলত এই দুইজনের সন্তুষ্টির পর সে সময়ের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ রহমানকে এটার উপর পূর্ণাঙ্গ ড্রাফট তৈরী করবার নির্দেশ দেন এবং ব্যাপারটা যাতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে হয় এই ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দেন।
এই সময় রাষ্ট্রপতির তৎকালীন সচিব আব্দুর রহিম আর আইন মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব জনাব আব্দুল কুদ্দুস দু’জনকেই খুব তোড় জোড় আর উৎসাহী দেখা যায়। শাহ আজিজের কাছ থেকে প্রাপ্ত একটি ড্রাফটের কিছু আইনী ধারনা মোশতাক ব্যবহার করেন বলে কেরামত সাহেব আমিনুল হক বাদশাকে জানান। মাহবুব উল আলম চাষী মোশতাককে এই বিষয় নিয়ে জিয়ার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন মোশতাককে যাতে করে সাধারণ জনতার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া এলে এটিকে রোধ করা সম্ভব হয়।
তৎকালীন সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এস এম শফিউল আজম সাহেবের কথার উদ্বৃতি দিয়েও বাদশা ভাই বলেন যে, সেই সময় মোশতাকের এই পরিকল্পনার কথা জেনারেল জিয়া যখন জানতে পারেন তখন জিয়া অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন। জিয়া মোশতাককে ইংরেজিতে যা বলেছিলেন তার বাংলা দাঁড়ায় এমন, ‘স্যার আপনি কম্বলে কোনো ফুটো রাখেননি’।
আজম সাহেব এক সময় সরকারের ক্যাবিনেট সচিব ছিলেন। যদিও তিনি পরবর্তীতে পাট মন্ত্রণালয়ে বদলি হয়ে যান কিন্তু সে সময়ে বঙ্গভবনে ছিলো তার অবাধ যাতায়াত। তাঁর ভাষ্যমতে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফারুক-রশিদ-ডালিম-নূর গং মোশতাকের প্রতি আরো আস্থাশীল হন এবং তারা মনে করে মোশতাক নিজের থেকেই তাদের ভবিষ্যতের কথা ভাবছে। বাদশা ভাইয়ের সাথে আমার এই বিষয়ে আলাপ আর তাঁর দেয়া তথ্য নিয়ে আমি একদিন প্রখ্যাত কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী’র (উনাকে আমি চাচা ডাকতাম। তিনি আমাকে পূত্রসম স্নেহ করতেন। উল্লেখ্য যে, আমার প্রথম দুইটি বইয়ের ভূমিকা গাফফার চাচার লেখা [4]) সাথে দীর্ঘ সময় আলাপ করি। সময়টা খুব সম্ভবত ২০১৪ এর শেষ বা ২০১৫ এর শুরুর দিকে হবে। তখনো বাদশা ভাই বেঁচে ছিলেন। গাফফার চাচাও বাদশা ভাইয়ের বলা উদ্বৃতিকে সঠিক বলে আমাকে জানান। তবে তিনি বলেন মোশতাক তো পাকিস্তানি আমলেই হাইকোর্ট বারের নেতা ছিলো এবং অনেকটা ‘ধুরন্ধর’ ধরনের আইনী প্যাঁচ জানতো। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমাকে বলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার তাঁকে নিশ্চিত করে বলেছেন মূলত মোশতাক আর তাহের উদ্দিন ঠাকুর মিলেই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের সমস্ত পরিকল্পনা, এর বিষয়াদি ইত্যাদি সম্পন্ন করে।
তিনি এই প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব তোয়াব খানের নামও আমাকে বলেন। তবে তোয়াব খান এই বিষয়ে জেনারেল জিয়া আর ওসমানির বিষয়টাও সামনে আনেন। জিয়া এই অধ্যাদেশের ব্যাপারে জানতে পেরে খুবই আগ্রহী ছিলেন। তিনি বলেন ‘তোয়াব আমাকে অনেকবার মোশতাক, জিয়া, কুদ্দুস চৌধুরী, তাহের ঠাকুর, আজিজ আর চাষীর কথা বলেছে। ওসমানি প্রথমে এই অধ্যাদেশের ব্যাপারে সন্দিহান থাকলেও সে সময় বঙ্গভবনে থাকা র্মি অফিসারদের এই বিষয়ে এত উৎফুল্ল দেখে তিনি আর কিছু বলেনি।‘
মোশতাক বঙ্গভবনের এক জরুরী সভায় (তাহের ঠাকুর ও মাহবুবুল আলম চাষী উপস্থিত ছিলেন) ওসমানিকে এও বলেছেন, ‘আপনি যে আমার নিরাপত্তা উপদেষ্টা হয়েছেন একদিন এটাও প্রশ্নের মুখে পড়বে আর এই আইনই আপনাকে বাঁচাবে’। এই কথা শুনে নাকি ওসমানি প্রচন্ড গম্ভীর হয়ে যান। মনে হচ্ছিলো তিনি খুব বিব্রত হয়েছেন। গাফফার চাচার মতে এদের সম্মিলিত বুদ্ধি, উদ্যোগেই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি হয় কিন্তু প্রধান হোতা আসলে মোশতাক আহমেদ, তাহের ঠাকুর এবং জিয়া, যদিও আইনী বিষয়টা মোশতাকের অধীনেই ছিলো। উল্লেখ্য মাহবুব তালুকদার ১৫-ই অগাস্ট পরবর্তী সময় বঙ্গভবনে কিছুদিনের জন্য চাকুরীরত ছিলেন। গাফফার চাচার রেফারেন্স নিয়ে আমি ২০২১ সালের খুব সম্ভবত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তাঁকে ফোন দেই। এই সময় তিনি কিছুটা ঝামেলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার সাথে নানাবিধ মতানৈক্য নিয়ে। সে সময় আমি মাত্র ঢাকাতে এসেছি। করোনার কারনে হোটেলে বন্দী।
বইমেলাও শুরু হয়েছে এবং আমি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নিয়ে বইয়ের প্ল্যান করছি, কাগজ পত্র সংগ্রহ শুরু করেছি। আমি তাঁকে ফোন দিয়ে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে প্রথমে তিনি কথা বলতে অনাগ্রহ দেখান। আমি মাহবুব সাহেবের এমন অনাগ্রহ আচরণের কথা জানালে গাফফার চাচা মাহবুব তালুকদার সাহেবকে ফোন দেন লন্ডন থেকে এবং আমার ব্যাপারে জানান এবং নিশ্চয়তা দেন যে তাঁর কোনো সমস্যা হবেনা। এরপর তিনি আমার সাথে কথা বলতে রাজি হন তবে তিনি কঠোর শর্ত দেন যে আমি নোট করতে পারবো কিন্তু বক্তব্য রেকর্ড বা ডিজিটাল কোনো ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবো না।
কথায় কথায় তিনি আমাকে জানান যে, ‘তুমি কি জানো একবার আমি সরকারি গাফফার ভাইয়ের ব্যাপারে নানাবিধ তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছিলাম। কারন সেই সময়ে গাফফার ভাই বঙ্গবন্ধু সরকার নিয়ে নানাবিধ সমালোচনায় মুখর ছিলেন। তবে বঙ্গবন্ধুর হত্যার সংবাদে সবচাইতে বেশী গাফফার ভাই ব্যাথিত হয়েছিলেন। গাফফার ভাই বঙ্গবন্ধুকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন’।
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ প্রসঙ্গ আসতেই মাহবুব তালুকদার বলেন সেই সময় সুনির্দিষ্টভাবে কয়জন এই অধ্যাদেশের পরিকল্পনা, ড্রাফটিং, এর বিষয়াদি নিয়ে কাজ করেছেন সেটা বলাটা দূরহ তবে বঙ্গভবনে চাকুরীর সুবাদে (তখন তিনি নিজেও কিছুটা পলাতক জীবন যাপন করতেন তাঁর মামার বাসায় গোপীবাগে) ২০ কিংবা ২১ অগাস্টের দিকে মোশতাকের অফিসে রুমে ঢুকবার পর তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে তিনি বলতে শোনেন যে, ‘এই বিষয়ে আলাপ এখন উঠাবার দরকার নেই। পরিস্থিতি ঠান্ডা হলে তারপর এটা নিয়ে কাজ করবেন।‘ রহমান নামের একজনের কথা সেই আলাপে উঠে যাকে ড্রাফট করার পর কুদ্দুসকে ব্রিফ পাঠাতে বলেন তিনি। তবে তিনি বেশ কয়েকবার শাহ আজিজের নাম সে সময় শুনেছেন যে কুদ্দুস চৌধুরী তার চেম্বারে যাচ্ছে নিয়মিত।
মাহবুব তালুকদার পুরো ব্যাপারটি সে সময় পুরোপুরি না বুঝলেও পরবর্তী সময়ে যখন এই অধ্যাদেশ জারি করা হয় সেসময় তিনি পরিষ্কার বুঝতে পারেন যে তাহের আর মোশতাক মূলত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নিয়েই কথা বলছেন। আর সেখানে আলাপে উঠে আসা নাম ‘রহমান’ বলতে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কথাই সেদিন বুঝিয়েছিলেন।
এরপর একাধিকবার তার সাথে তাহের উদ্দিন ঠাকুরের দেখা হয়েছিলো এবং তাহের ঠাকুর পেছন থেকে এই অধ্যাদেশের জন্য মূল বুদ্ধিদাতা হিসেবে মোশতাকের কথাই মাহবুব তালুকদারকে বলেছেন। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের প্রাথমিক পরিকল্পনা, এটা কিভাবে হবে, কি কি লেখা থাকবে সবই মোশতাকের মস্তিষ্ক প্রসূত বলেই তাহের ঠাকুরের দাবী। প্রাথমিক খসড়া মোশতাক নিজের হাতেই লেখেন এবং পরে তাহের ঠাকুরকে দেখান। তবে তাহের ঠাকুর বলেছেন পেছন থেকে জেনারেল জিয়ার একটা শক্ত সমর্থন ছিলো এবং এটা নিয়ে কেউ ‘ঝামেলা’ করতে পারবেনা বলেও জিয়া আশ্বস্ত করেছিলো মোশতাককে।
তাহের ঠাকুর মোশতাককেই এই অধ্যাদেশের মূল পরিকল্পনাকারী বলে অভিহিত করেন। মোশতাক-ই নাকি তাকে একদিন এই ধরনের একটি আইনের প্রয়োজন হতে পারে বলে অফিসে ডেকে নিয়ে আলাপ করেন। মাহবুব তালুকদারের সাথে আলাপে তাহের এমনও বলেছেন যে, ‘এই দুষ্ট বুদ্ধি মোশতাক ছাড়া আর মাথা থেকে বের হবে?’
অবশ্য শাহ আজিজুর রহমানের সাথেও এই অধ্যাদেশের আইনী নানাবিধ খুঁটিনাটি নিয়ে মোশতাকের অনেকবার আলাপ হয়েছে বলেও মাহবুব তালুকদার আমাকে জানান। সর্বশেষ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারীর শেষের দিকে আমি গাফফার চাচার বাসাতে তাঁকে দেখতে যাই। ভুল না হলে তারিখটা ২৩ বা ২৪ তারিখ হবে। আমার মনে আছে উনার সাথে দেখা করবার পরদিন আমি বাংলাদেশে যাই। তিনি তখন অসুস্থ হয়ে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী। মাত্র কিছুদিন হলো হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন।
খুব সকালে আমি তাঁর বাসাতে গেলে দেশের নানাবিধ প্রসঙ্গ নিয়ে আলাপ করি এবং তিনিও আমার কাছে জানতে চান দেশের সাম্প্রতিক নানাবিধ বিষয়ে। মাহবুব তালুকদারের সাথে আমার আলাপ প্রসঙ্গে কথা উঠতেই এই অধ্যাদেশ নিয়ে পুনরায় তাঁর সাথে কথা হয়। চাচা জানতেন আমি এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নিয়ে একটি বইয়ের কথা ভাবছি। তিনি এদিন আমাকে তোয়াব খানের বক্তব্যটা আবারো বলেন এবং বলেন, যৌক্তিকভাবেই এই অধ্যাদেশ আসলে শুধু যারা বঙ্গবন্ধু ও বাকিদের হত্যা করেছে তাদের জন্য রক্ষাকবচ ছিলোনা বতং এটি আসলে সবচাইতে কার্যকরী ছিলো যারা পেছনে পরিকল্পনা করেছিলো। তিনি আমাকে বলেন, ‘দেখবা এই অধ্যাদেশে ‘প্ল্যান’ কথাটা লেখা আছে।
তারমানে মোশতাক জানতো একদিন এই হত্যা পরিকল্পনার জন্য তাকে ধরা হবে ফলে এই শব্দটা সে জুড়ে দেয়’। অবশ্য গাফফার চাচা নিজের একটা অবজার্ভেশন দেন এই বলে যে, সেনাবাহিনীর অফিসাররা তখন বঙ্গভবনে। এদের পুরো বলয়কে রক্ষা করার জন্য যে আইনী পদক্ষেপ সেটা তো আসলে সেনাবাহিনীর অফিসারদের মাথা থেকে বের হবার কথা না ফলে এই বুদ্ধি দেবার ফলে সে জিয়া সহ বাকি অফিসারদের কাছে আরো আস্থাভাজন হয়। তিনি কাজী ফজলুর রহমান নামে এক ভদ্রলোক যিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যার কিছুদিন পর পেট্রোলিয়াম মন্ত্রনালয়ের সচিব হয়েছিলেন তাঁর সাথে চাচার এক সময়ের আলাপের বিষয় তুলে আনেন এবং বলেন, ফজলু সাহেবও একদিন আলাপে একই বিশ্লেষনের কথা তাঁকে জানান। তবে তোয়াব খানের রেফারেন্স দিয়ে তিনি বলেন মোশতাক এখানে একটা সুক্ষ্ণ খেলা খেলে ঘাতকদের সাথে।
অধ্যাদেশে সার্টিফিকেট ইস্যুর কথা থাকলেও আদতে সে এটা করেনি। আর সার্টিফিকেট ইস্যু না হলে একদিকে যেমন অধ্যাদেশ অনুযায়ী টার্মস গুলো পূর্ণ হচ্ছে না অন্যদিকে ঘাতকেরা এটা বলারও সুযোগ পেয়ে যায় যে ‘আমাদের তো সার্টিফিকেটই নাই ফলে এই ঘটনায় আমাদের অংশগ্রহণ করার কথাটাও মিথ্যে’। আদতে আমরা দেখতে পেলাম সেটাই হয়েছে। ১৫-ই অগাস্টের স্বঘোষিত ঘাতক লে কর্ণেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান কিন্তু তার ইংরেজীতে দেয়া জবানবন্দীতে স্পস্ট বলেছে-
I beg to say that the Indemnity Ordinance, 1975 indemnified the persons involved in the incident by being granted certificate and it is verily true that such certificates were issued. I declare to your honour in defence of my innocence in the case by stating that I am not involved in the incident and I am not holder of any such certificate so that I can be brought into this case on charge of the incident taking place in the morning of August 15, 1975.[5]
এই অধ্যাদেশ খন্দকার মোশতাককে বলপূর্বক করা হয়ে থাকতে পারে বলে অবশ্য একটা তত্ত্ব দেন এডভোকেট মাহবুব উদ্দিন আহমেদ। ইনডেমনিটি রহিতকরন আইন-১৯৯৬ এর বৈধতা প্রশ্নে আদালতে রিট পিটিশান দায়ের করা হলে খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এই রিটের একজন এমিকাস কিউরি বা আদালতের বন্ধু হিসেবে এমন মতামত দেন। যদিও এটি ছিলো তার সম্পূর্ণ অনুমান নির্ভর তথাপিও এই অংশে এই তত্ত্বটি প্রাসঙ্গিক। খন্দকার মাহবুব মনে করেন খন্দকার মোশতাক সে সময় বঙ্গভবনে অস্ত্র বেষ্টিত থাকার কারনে ভয়ের ফলশ্রুতিতে এই ধরনের একটি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে থাকতে পারেন।[6]
যদিও ১৯৯৩ সালে সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন আজকের সূর্যদোয়ের এক প্রতিবেদক ১৫ অগাস্টের অন্যতম অভিযুক্ত লে কর্ণেল (বরখাস্ত) ফারুক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে গেলে তিনিই ফারুককে খনদকার মোশতাকের একটি উক্তি ফারুককে শোনান,যেখানে খন্দকার মোশতাক তাচ্ছিল্যভ’রে বলেছিলো, ‘ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশ হচ্ছে মুজিবের চল্লিশা’, এটা নিয়ে তার মতামত কি। জবাবে ফারুক বলেছিলো, ‘মোশতাক চালু মাল’[7]।
ফলে যেই ব্যাক্তি এমন নির্মম হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করেও সেই হত্যাকান্ডকে আইন করে বন্ধ করে দেন এবং সেই আইনকে ‘চল্লিশা’ বলে অভিহিত করেন, তিনি ভয়ের মুখে বা অস্ত্রের মুখে এই অধ্যাদেশ প্রনোয়ন করেছেন অন্তত উপরের আলোচনা সাপেক্ষে তা যৌক্তিক মনে হয়না।
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নিয়ে ৭৫ এর পর খুব আলোচনা হয়েছে কিংবা এটি নিয়ে কোথাও প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ হয়েছে এমন সংবাদের সূত্র পাওয়া যায়না। স্বাধীনতার পরপর এই দেশের জনককে স্বপরিবারে হত্যা, সংবিধান ছিনতাই, জনতার ম্যান্ডেটকে ছিনতাই এবং সবার উপর দিয়ে সেনাবাহিনীর কিছু জুনিয়ার আর সিনিয়র অফিসারদের এই দেশের উপর এমন সামরিক আইনের উন্মক্ত ছুরি চালানোতে হয়ত সাধারণ মানুষ নিজের প্রাণের ভয়ে এই নিয়ে আর কথাই বলেনি।
২৬ শে সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ ইং তারিখের এই অধ্যাদেশ জারির পর ৩ শরা নভেম্বর ১৯৭৫ ইং তারিখে কারাগারের ভেতর জাতীয় চার নেতা জনাব তাজ উদ্দিন আহমদ, জনাব কামারুজ্জামান, জনাব ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও জনাব নজরুল ইসলাম যারা এক একজন ছিলেন এই দেশের স্বাধীনতার অন্যতম রূপকার ও বঙ্গবন্ধুর সারথী তাঁদেরকে খন্দকার মোশতাকের নির্দেশে রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের মাধ্যমে কারাগারের ভেতরেই নির্মমভাবে খুন করা হয়[8]।
৩ই নভেম্বর ১৯৭৫ ইং তারিখে খালেদ মোশাররফ ও কর্ণেল শাফায়াত জামিল এক সামরিক ক্যু করে মোশতাক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করেন।[9]–[10] ৬-ই নভেম্বর ১৯৭৫ ইং তারিখে খালেদ মোশাররফ, কর্ণেল নাজমুল হুদা ও কর্ণেল এ টি এম হায়দারকে নির্মমভাবে খুন করে মেজর জলিল ও মেজর আসাদ[11]।
কর্ণেল তাহেরের সাহায্যে জিয়াকে বন্দী দশা থেকে মুক্ত করা হয়।[12] ৬ নভেম্বর তারিখেই খন্দকার মোশতাক দেশের শাসনভার হস্তান্তর করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের হাতে। এমন একটা ঝঞ্জা বিক্ষুব্ধ গোলমেলে সময়ে ২৬-শে সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ ইং তারিখে জারি হওয়া কালো আইনটি অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালেই হারিয়ে যায়। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচাইতে বড় ‘ড্রাকোনিয়ান’ আইনটি নিয়ে মানুষের অন্তরালের ক্ষোভ থাকলেও সেটি নিয়ে কেউ আর প্রকাশ্যে বলবার সুযোগ কিংবা সাহস কোনোটিই আর পায়নি।
[1] ‘Sheikh Mujib Murder Enquiry’, PRELIMINARY REPORT OF THE COMMISSION OF ENQUIRY, London Dated 20 March 1982
[2] Sunday Express, Volume-2, No-6, 18-24 August, 1991, page-5
[3] আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী্র জন্ম চট্টগ্রামের রাউজানে। ১৯৮৩ সালে জনাব কুদ্দুস হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ ডেপুটেশনে আইন সচিব হিসেবে আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের অনেক বিতর্কিত আইন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তার ধুর্ত বুদ্ধির কথা বেশ আলোচিত রয়েছে। তার ধূর্ত কাজের মধ্যে বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংযোজন, এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ড্রাফটিং, দালাল আইন বাতিলের ড্রাফটিং ও এর পেছনের বুদ্ধি প্রদান, কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির ড্রাফটিং উল্লেখযোগ্য।
[4] (১) একাত্তরের ঘাতকদের বিচারে মুসলিম আইডেন্টিটির অপঃ ব্যবহার, গ্রন্থিক প্রকাশনী, ২০১৮, (২) আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতঃ বিবাদী পক্ষের অদ্ভুত সাক্ষীগুলো, গ্রন্থিক প্রকাশনী-২০২০
[5] বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড ও বিচার, মোস্তফা ফিরোজ,পূর্বা প্রকাশ, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা-২৩০
[6] Civil Appeal No. 18 & 19 of 1997, Shahriar Rashid Khan vs. Bangladesh and others & Col. (Retd.) Sayed Faruque Rahman Vs. Bangladesh and others, Paragraph-57
[7] সাপ্তাহিক আজকের সূর্যোদয়, ৪-১০ মার্চ,১৯৯৩, পৃষ্ঠা-৯
[8] জাতীয় চারনেতার হত্যা মামলার রায়, আপীলেট ডিভিশান
[9] তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা, লে কর্ণেল (অব) এম এ হামিদ,হাওলাদার প্রকাশনী
[10] একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, রক্তাক্ত মধ্য-অগাস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর, কর্ণেল শাফায়াত জামিল,সাহিত্য প্রকাশ
[11] নভেম্বর ১৯৭৫, নজরুল সৈয়দ, ঐতিহ্য প্রকাশনী, পৃষ্ঠা-১১১
[12] তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা, লে কর্ণেল (অব) এম এ হামিদ,হাওলাদার প্রকাশনী, পৃষ্ঠা-১২২